
দুই দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। দলটি ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেবে, তার একটি রূপরেখা ঘোষণা করেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপনে সাহসী ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নেবে। গত বুধবার (৪ মে) বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের আর্থিক খাত পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে কৃষি, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবমুখী করতে ‘ট্রেড কোর্স’, এপ্রেন্টিসশিপ, ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিয়ে টিকাদান, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে।
নারীদের জন্য ডেডিকেটেড সাপোর্ট সেল চালু এবং তাদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে ধর্ষণ, চুরি, ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
কৃষকের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। সারাদেশে কোল্ড স্টোরেজ ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি অ্যাকশন-ওরিয়েন্টেড রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। দেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন