
ঢাকা, ১ জুন ২০২৫: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি পৃথক অভিযোগ আমলে নিয়েছে।
রবিবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়।
অভিযোগ-১: ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এই বক্তব্যের ফলে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ-২: আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র কর্মীদেরকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ পরিচালনার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ-৩: ১৬ জুলাই ২০২৪, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অভিযোগ-৪: ৫ আগস্ট ২০২৪, ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৬ জন নিরীহ ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করে।
অভিযোগ-৫: একই দিন আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনরত ৬ জন নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে গুলি করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত অমানবিক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রহণ করেছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। অভিযোগগুলোতে মানবতাবিরোধী অপরাধ, পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের প্রমাণ রয়েছে বলে মনে করছে ট্রাইব্যুনাল।
এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, এ ঘটনা বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন