ঢাকা – এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য দেশে ৫২টি রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।” এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শওকত আজিজ বলেন, “নির্বাচন নিয়ে মানুষের দাবি স্পষ্ট, কিন্তু তা মিথ্যা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা চলছেই।”
শওকত আজিজ তার বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বাচনের গুরুত্ব এবং সরকারের দায়িত্বহীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন হলো জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের একমাত্র সাংবিধানিক উপায়। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করে আসছে, যেখানে আমাদের নেতাকর্মীরা গুম, খুন, ও মামলার শিকার হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকারের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি যখন নির্বাচন কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখনও এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের অভাব দেখা যাচ্ছে।”
শওকত আজিজ বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল অনেকটা পরীক্ষায় ফেল করার ভয়ে পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতি না থাকার মতো। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অসম্ভব।”
ড. ইউনুসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শওকত আজিজ বলেন, “তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের বিষয়ে নিরব ছিলেন। এখন যখন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন তিনি সুবিধাজনক অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা।”
শওকত আজিজ অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার প্রধান নির্বাচনের বিষয়ে টালবাহানা করছেন। তিনি বলেন, “দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী। বিএনপি এবং অন্যান্য গণতন্ত্রকামী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছে। যদি সরকার এখনো সময়মতো নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ তাদের ক্ষমতালোভী হিসেবেই গণ্য করবে।”
মো. শওকত আজিজ তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে, “দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। সময় এসেছে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর। যদি সরকার এই দাবি উপেক্ষা করে, তবে দেশের জনগণই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
মন্তব্য করুন