
ঢাকা, ২৮ মে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম আজ বলেছেন, “বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য রোগ প্রতিরোধই প্রধান চাবিকাঠি। পুরো দেশকে হাসপাতালে পরিণত করলেও রোগ প্রতিরোধে মনোযোগ না দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
তিনি রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, “পুষ্টিহীনতা মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয়। এতে মানুষের কার্যক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবার যথেষ্ট নয়, রান্নার প্রক্রিয়া এবং রাসায়নিক মুক্ত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করাও জরুরি।”
তিনি উল্লেখ করেন, “শিশুরা আজকাল মাঠের অভাবে মোবাইল, ইন্টারনেট এবং ফাস্টফুডে আসক্ত হয়ে পড়ছে। খেলার মাঠ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা এবং আন্দোলনের প্রয়োজন।”
স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী বলেন, “পুষ্টি সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, উন্নয়ন বাজেটের বাইরেও পুষ্টি সংক্রান্ত বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মেডিকেল, নার্সিং ও ম্যাটসের কারিকুলামে পুষ্টি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “দেশে এখনও ২৮ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির শিকার। ওভার নিউট্রিশনের কারণে স্থূলতা বাড়ছে এবং নতুন নতুন রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম বলেন, “গ্রাম ও শহরের মানুষ এখন ফাস্টফুডের প্রতি ঝুঁকছে। ফলে সারা বছরই সচেতনতা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশনিস্ট ডা. জয়াশীষ রয় পুষ্টি সপ্তাহের কার্যাবলী নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে পুষ্টি মেলার আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত
মন্তব্য করুন