
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ অবিলম্বে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়। আজ (রোববার) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান জানান, গতকাল (শনিবার) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকারই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। সরকার জনগণের ন্যায্য দাবি মানতে বাধ্য এবং এতে কোনো ধরনের মান-অভিমান বা রাগ-বিরাগের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ সরকারের করুণার পাত্র নয়; বরং জনগণের দাবি পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। তাদের দাবি-দাওয়া শোনার কেউ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বাজেট পাসের ঠিক আগে এনবিআরের সংস্কার চাপিয়ে দিয়ে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি করেছে। এটি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সংস্কারকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রয়োজনেই এটি করা হয়। তবে পুথিগত সংস্কারের চেয়ে প্রায়োগিক সংস্কার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা পেলেও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। তাই সরকারের পরিকল্পনা জনগণের কাছে স্বচ্ছ হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোকে অনিশ্চয়তায় রেখে কোনো পরিকল্পনা কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব নয়।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক এবং স্থিতিশীল সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন