
১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রয় কমিটি। একইসাথে যশোর মেডিকেল কলেজেও একই ধরনের হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সোহেল বকস মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমাদের কাছে খবর এসেছে যে আজকের এসিসিজিপি সভায় হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। যদিও এখনো অফিসিয়াল পত্র হাতে আসেনি, আশা করছি আগামীকাল তা পেয়ে যাব।”
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ডা. বকস আরও বলেন, “আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। নির্মাণ ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে কাগজ হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।”
১০ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।
২০০৮ সালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পাশে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু হয় মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। বহু আন্দোলনের পর ২০১৭ সালে ঝিলংজায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ১০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে ব্যবহারিক ক্লাস করতে যেতে হতো।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যাতায়াতের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি সাধারণ বাস। পাশাপাশি রয়েছে চরম শিক্ষক সংকট ও আবাসনের অভাব। ১৪টি ব্যাচ এই দুর্ভোগ সহ্য করেই বিদায় নিয়েছে।
একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজের সাথে থাকার কথা ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, যেখানে অন্তত ২০টি বিভাগের চিকিৎসা সেবা থাকবে। কিন্তু কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।
৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদনের ফলে কলেজটি একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মানও বাড়াবে।
এই উন্নয়ন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
মন্তব্য করুন