
ঢাকা, ১৯ মে: জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলাটির নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত একটি ‘হত্যাচেষ্টা’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ভাটারা থানার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০০-৪০০ জন ‘অজ্ঞাত’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি।
মামলার সময়কাল (১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট) জুড়ে নুসরাত ফারিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থান করছিলেন। ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের টিকিট অনুযায়ী, ৯ জুলাই তিনি ঢাকা ত্যাগ করে কানাডার টরেন্টো পৌঁছান এবং ১৪ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন। এ সময়ে তিনি একাধিক কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন। তার বিদেশে অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে আয়োজকদের ফেসবুক পেজ ও ফারিয়ার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম থেকে আলোকচিত্র ও ভিডিও পাওয়া গেছে।
কানাডার ক্যালগারির একজন আয়োজকও তার উপস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সময়কালে ফারিয়া সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকা অবস্থায়ও তিনি ১৮-২৩ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পোস্ট দেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন,”৬ দিন হয়ে গেল আমার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলিনি।… সবার সুস্থতা ও দেশের শান্তি কামনা করছি।”
নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে বিস্ময় ও হতাশা। অনেকেই এই গ্রেপ্তারকে ‘নাটক’ ও ‘ভূয়া অভিযোগ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সোমবার আদালত ফারিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তার জামিন শুনানির জন্য আগামী ২২ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এ বিষয়ে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানের প্রমাণসহ আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য তারা কাজ করছেন।
এ ঘটনায় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন