
কাশ্মিরে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে ভারতজুড়ে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছে। এসব পোস্টে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে আনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
কংগ্রেসের শেয়ার করা একাধিক পোস্টে ইন্দিরা গান্ধীর ছবির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বর্তমান সিদ্ধান্তের তুলনা করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মতো দৃঢ় নেতৃত্ব বর্তমান পরিস্থিতিতে নেই। কংগ্রেসের এমন প্রচারণার সমালোচনা করে বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, বিরোধী দল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অপমান করতে এসব পোস্ট করছে।
কংগ্রেসের এই প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা শশী থারুর সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে বরং পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। দেশটির বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট আর ২০২৫ সালের পরিস্থিতি এক নয়। এখানে পার্থক্য রয়েছে। ভারতীয় জনগণ শান্তি চায়, আমরা অনেক ভোগান্তি পোহাচ্ছি। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এখন দেশের অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।”
শশী থারুর আরও বলেন, “যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন হলে তা করা হবে। তবে, আমরা কেবল সন্ত্রাসীদের শিক্ষা দিতে চেয়েছিলাম এবং সেই কাজ ইতোমধ্যেই করা হয়েছে। নিরীহ মানুষের হত্যায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যেতে হবে, কিন্তু এজন্য পুরো দেশকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক হবে না।”
তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তখন ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় উপমহাদেশের মানচিত্র নতুন করে আঁকা হয়েছিল। আজকের পাকিস্তান ভিন্ন; তাদের সামরিক শক্তি, অস্ত্র এবং ধ্বংস করার ক্ষমতাও আলাদা।
ভারতীয় জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে থারুর বলেন, “এই মুহূর্তে শান্তিই সঠিক পথ। যুদ্ধবিরতি সঠিক সময়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত।”
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শশী থারুরের এমন মন্তব্যকে সংযত ও বিচক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা প্রচারণা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
মন্তব্য করুন