
ঢাকা, ১১ মে: সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার (সংগঠন) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান সংযোজন করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। রোববার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, সংশোধনীটি আগামীকাল (১২ মে) অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হতে পারে।
বৈঠকের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইন সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং শাস্তির বিধান প্রণয়নের জন্য প্রণীত হয়েছিল। তবে এই আইনে সন্ত্রাসী সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান ছিল না। এই ঘাটতি দূর করতে এবং আইনকে সময়োপযোগী করতে সংশোধনী আনা হয়েছে।
সংশোধনীতে যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
১। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত সত্তার (সংগঠন) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান।
২। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসী প্রচারণা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা।
৩। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সত্তাকে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেন, “সন্ত্রাস দমন এবং দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সংশোধনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অনলাইন প্রচারণা নিষিদ্ধ করার বিধান সংযোজন করা সময়োপযোগী। কারণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রসার করার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
উল্লেখ্য, সংশোধনী অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হলে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আরও সহজ হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাস দমন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
মন্তব্য করুন