
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কিশোরগঞ্জের সদর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর একজন কর্মকর্তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৯ মাস পর বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ছাড়েন। তার সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে রিয়াদ আহমেদ এবং শ্যালক ডা. নওশাদ খান। ব্যাংককের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এই ফ্লাইটের নম্বর ছিল টিজি ৩৪০।
পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ইমিগ্রেশন শিফট-১ এর এক বিশেষ পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য দেশ ছেড়েছেন। তার ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।”
আবদুল হামিদের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি দায়ের করা এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের নামও উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা এবং তদন্তের ধীরগতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে, সাবেক রাষ্ট্রপতির দেশত্যাগের পেছনের কারণ এবং তার আইনগত জটিলতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির এই ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
মন্তব্য করুন