
ইরানের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মোহসেন লাঙ্গারনেশিন নামে একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত বুধবার সকালে এই শাস্তি কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা মিজান।
ইরান দাবি করেছে, ২০২০ সাল থেকে মোহসেন লাঙ্গারনেশিন মোসাদকে লজিস্টিক, প্রযুক্তিগত এবং কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, ২০২২ সালে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কোরের কর্নেল সাইয়াদ খোদায়ির হত্যাকাণ্ডে তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
বিচার বিভাগের তথ্যমতে, খোদায়ির গতিবিধি নজরদারি করার জন্য লাঙ্গারনেশিন একটি মোটরসাইকেল কিনে নজরদারি চালাতেন এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিল্প এলাকায় হামলায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) প্রধান মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, “লাঙ্গারনেশিনকে একতরফাভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবদুর রহমান বোরুমান্দ সেন্টার জানিয়েছে, লাঙ্গারনেশিন ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হন এবং তেহরানের রেভল্যুশনারি কোর্টের বিচারক আবুলঘাসেম সালাভাতি তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। এই বিচারকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
লাঙ্গারনেশিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এমন সময়ে ঘটলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল এই আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র করছে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ইরান এর আগেও মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কার্যকর করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন