
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে ২৮ বছরে পদার্পণ করেছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করেছে বিএমইউ প্রশাসন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “ইনোভেট, এডুকেট, এলিভেট—ড্রিমস টু দ্য রিয়্যালিটি”।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, গবেষণায় মঞ্জুরি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি। সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়ানো হয়। র্যালিটি বি ব্লক থেকে শুরু হয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হয়ে সি ব্লকে শেষ হয়।
দুপুরে এ ব্লকের মিলনায়তনে ‘বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: প্রত্যাশা বনাম অগ্রগতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, “গবেষণা হবে জনকল্যাণ ও উদ্ভাবনমুখী। নিত্যনতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিএমইউকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ভিসি বলেন, “বিপ্লবোত্তর চেতনায় বিএমইউকে উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার ক্ষেত্রে বিশ্বমানে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।”
এ সময় ৫৬ জন শিক্ষক ও চিকিৎসকের মাঝে গবেষণার জন্য অনুদান প্রদান করা হয়। গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে ভিসি জানান, “গবেষণা হবে সহজ, বাস্তবমুখী এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত।”
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে নতুন দুটি স্টাফ বাস উদ্বোধন, রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা তাদের আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ সাধারণ রোগী ও আহতদের উন্নত খাবার পরিবেশনে উৎসর্গ করেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নামকরণ করা হয়।
দিবসটি উদযাপনে বিএমইউ’র ডিন, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রারসহ অসংখ্য শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন