
চট্টগ্রামে চলমান দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ২৯১ রান সংগ্রহ করে ৬৪ রানের লিড নেয়। তবে শেষ সেশনে দ্রুত উইকেট হারানোয় স্বাগতিক দল দিনটি পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি।
দিনের মূল আকর্ষণ ছিল ওপেনার সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ১৪২ বল খেলে ১৬টি চারের মারে ১২০ রান করা সাদমান তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটি পূর্ণ করেন, দুটিই এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তার প্রথম সেঞ্চুরি ছিল ২০২১ সালে হারারেতে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার এই ইনিংস দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাদমানের সঙ্গে প্রথম উইকেটে এনামুল হক বিজয়ের ৩৯ রানের ইনিংসও উল্লেখযোগ্য। তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরে বিজয়ের এই ইনিংস তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, যদিও ব্যক্তিগত পঞ্চাশ স্পর্শ না করায় কিছুটা হতাশা থেকে গেছে।
উদ্বোধনী জুটিতে ১১৮ রান এবং মুমিনুল হকের সঙ্গে ৭৬ রানের পার্টনারশিপে দল মজবুত অবস্থানে থাকলেও চা বিরতির পরই চাপ সৃষ্টি হয়। সাদমান এবং মুমিনুলের দ্রুত বিদায়ের পর শুরু হয় ধস। মুশফিকুর রহিম ও শান্ত মিলে ৬৫ রানের পার্টনারশিপ গড়লেও দলটি ২৫৯/৩ থেকে ২৭৯/৭-এ পরিণত হয়। মুশফিক দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হন ৪০ রানে।
দিনের শেষ দিকে মেহেদি হাসান মিরাজ (১৬*) এবং তাইজুল ইসলাম (৫*) অপরাজিত থেকে ইনিংস ধরে রাখেন। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করে ২৯১ রানে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ভিনসেন্ট মাসেসেকা সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মাসাকাদজা এবং রায়ান বেনেট দুটি করে উইকেট নেন।এর আগে, দিনের শুরুতেই জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংস ২২৭ রানে শেষ করে। গতকাল ৯ উইকেটে ২২৭ রানে দিন শেষ করা জিম্বাবুয়ে আজ কোনো রান যোগ করতে পারেনি। বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলামের ৬ উইকেট শিকারের দাপটে তারা দ্রুত গুটিয়ে যায়।
বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিরাজ-তাইজুল জুটি কতটা রান যোগ করতে পারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে দ্রুত শেষ উইকেট তুলে নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চাইবে।
মন্তব্য করুন