
সিলেটের আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মতোই অনিশ্চিত ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল। দিনশেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান করে শক্ত অবস্থানে রয়েছে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ভুলে ভরা শট নির্বাচন এবং টানা ব্যর্থতাই বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দলকে বিপদমুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে একের পর এক ব্যাটসম্যান অযৌক্তিক শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যক্তিগত ৪০ রানে আউট হন, আর মুশফিকুর রহিম মাত্র ৪ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। মুমিনুল হক ৫৬ রানের ইনিংস খেললেও ভাগ্যের সহায়তা সত্ত্বেও বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হন।
জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি এবং স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন। মুজারাবানি ৩টি এবং মাসাকাদজা ৩টি উইকেট নেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুল কাজে লাগিয়ে সফরকারী দল নিয়েছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।
জাকের আলীর ২৮ রানের লড়াকু ইনিংস এবং হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার ৪১ রানের জুটি ছাড়া ব্যাটিং লাইনআপে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের এমন ব্যর্থতা দেশের মাটিতে টেস্টে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা।
প্রথম দিনের শেষভাগে জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রায়ান বেনেট এবং বেন কারেন স্বাচ্ছন্দ্যে ৬৭ রান তুলে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। বাংলাদেশের বোলাররা সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হন। জিম্বাবুয়ে এখনো পিছিয়ে আছে ১২৪ রানে, তবে ১০ উইকেট হাতে রেখে দ্বিতীয় দিনে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এমন দৃষ্টিকটু প্রদর্শনী সিলেটের দর্শকদের হতাশ করেছে। দল কি পরবর্তী ইনিংসে ফিরে আসতে পারবে? নাকি সফরকারী জিম্বাবুয়ে প্রথম টেস্টে নিজেদের দাপট দেখাবে? তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন