
ছয় দফা দাবি আদায়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে দেশের সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা রেলপথ ব্লকেড এবং অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শেষে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি জুবায়ের পাটোয়ারি বলেন, “আমাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা সারাদেশে রেলপথ ব্লকেড এবং অসহযোগ আন্দোলন শুরু করবো।”
শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১. পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের কোটা বাতিল।
৩. আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ।
৪. পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের অপসারণ।
৫. হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
৬. প্রতিটি দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লিখিত প্রতিশ্রুতি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রেলপথ ব্লকেড কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট সময় এবং স্থান সম্পর্কে তাদের ফেসবুক পেজ “কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ”-এ জানানো হবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শোয়াইব আহমাদ খান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে, তাদের দাবি বিবেচনা করা হবে এবং ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের জন্য কোনো কোটা রাখা হবে না।
জুবায়ের পাটোয়ারি বলেন, “আমাদের ওপর হামলা এবং গুলি করা হয়েছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের উচিত ছিল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। একজন প্রিন্সিপাল অপসারণ করতে পুরো দিন লেগে যায়, তাহলে দেশ পরিচালনা করবে কীভাবে?” সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ঢাকার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জেলা পর্যায়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দেশের কারিগরি শিক্ষার প্রতি উদাসীনতার প্রভাব তুলে ধরছে। দাবি দ্রুত পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন