আগামীকাল সোমবার বাংলা নতুন বছর শুরু হতে যাচ্ছে, আর এই দিনটিকে বরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা,’ যা শুরু হবে সকাল ৯টায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে এবং এটি চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রদক্ষিণ করবে।
এবারের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান।’ শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়, টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে আবার চারুকলায় ফিরে আসবে। শোভাযাত্রার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে শুধুমাত্র নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্য প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণ উদযাপন এবার আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ২৮টি জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, এবং বিদেশি অতিথিদের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের শোভাযাত্রায় ৭টি বড়, ৭টি মাঝারি, এবং ৭টি ছোট মোটিফ থাকবে। লোক-ঐতিহ্য এবং ২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে এটি আয়োজন করা হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে চারুকলা অনুষদের তৈরি মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। ক্যাম্পাসে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে এবং মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
নববর্ষের দিন বিকাল ৫টার মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করতে হবে। সন্ধ্যা ৭টার পর স্টিকারবিহীন যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। মোটরসাইকেল চলাচলও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মোবাইল পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণ উদযাপন নতুন বছরকে বরণ করার ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং আনন্দের বার্তা বহন করবে। এটি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং সম্প্রীতির সেতুবন্ধন।
মন্তব্য করুন