প্রাভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সিলভানা কাদের সিনহা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত আগামী দশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করবে। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বাজার ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে সিলভানা এ তথ্য দেন। অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’।
সিলভানা কাদের বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত এখনো আমদানিনির্ভর হলেও স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ বিশাল। তিনি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ডায়াগনস্টিক কিটের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান চাহিদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এ খাতের উৎপাদন ও বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে।
তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে দেশের স্বাস্থ্যখাত বার্ষিক ১০.৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। খাতটি তিন লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। সিলভানা বলেন, দেশের মধ্যবিত্তের প্রসার, অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই খাতের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত পাঁচটি উপখাতে বিভক্ত: স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ওষুধশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডিজিটাল হেলথ এবং চিকিৎসা জীবপ্রযুক্তি। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সম্প্রসারণ এবং সরকারের নানা প্রণোদনার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বেসরকারি খাতের জন্য কর অব্যাহতির সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন, যা দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে হাসপাতাল স্থাপনে সহায়ক হচ্ছে।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিলভানা বলেন, এটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। ২০২৫ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যান্টিবায়োটিক, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ও জ্বর নিরাময়ী ওষুধ দেশের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি প্রসারে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশে নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে আসা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত বৈশ্বিক মানের হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমানও দেশের স্বাস্থ্যখাতের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাত ২৩ বিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ সম্মেলন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন