বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। জনস্বাস্থ্য খাতে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত একটি ওয়েবিনারে তিনি এই দাবি তোলেন। সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের যৌথ আয়োজনে এ ওয়েবিনারে দেশের বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
ওয়েবিনারে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে শুধু প্রাণী স্বাস্থ্য দেখার জন্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এটি পুষ্টি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাণীর স্বাস্থ্য অবহেলা করলে মানুষের স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, “সংবিধানে ভোট ও বাকস্বাধীনতার মতো অধিকার স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হলেও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মানবাধিকারের লঙ্ঘন সম্পর্কে পর্যাপ্ত আলোচনা নেই।”
উপদেষ্টা আরও তুলে ধরেন, “অ্যান্টিবায়েটিক প্রতিরোধ একটি ভয়াবহ সংকট হয়ে উঠেছে, যা কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক এবং প্রাণী খাদ্যে অ্যান্টিবায়েটিক ব্যবহারের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। এটি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, “মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের মতোই স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণ যাতে সহজে ও বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সল বলেন, “স্বাস্থ্য সেবার মান ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।”
নারীপক্ষের প্রকল্প পরিচালক সামিয়া আফরিন উল্লেখ করেন, “নারী স্বাস্থ্য খাতে শোষণ ও বৈষম্য দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। আইন ও নীতিমালায় নারীর স্বাস্থ্য অধিকারের স্পষ্ট উল্লেখ থাকা আবশ্যক।”
ওয়েবিনারে আলোচকরা বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
স্বাস্থ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।
বৈষম্যহীন ও বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
স্বাস্থ্য কমিশন গঠন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
রোগ প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম জোরদার করা।
ওয়েবিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন উবিনীগের পরিচালক সীমাদাস সীমু, পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ এবং সিএলপিএ সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
সঞ্চালক এবং বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য খাতে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন