বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পূর্বাভাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হচ্ছে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ স্টেশন ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা প্রদান করতে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান অনুষদে স্টেশনটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এ প্রকল্পের আওতায় চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনা বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ কোটি টাকার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই গ্রাউন্ড স্টেশন চীনের এইচওয়াই-১এসআই/ডি এবং এফওয়াই-৪বি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, এবং মেঘের চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সম্ভাব্যতা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বর্তমানে আমরা বিদেশি সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। এতে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা বিলম্ব হয়। এই স্টেশন আমাদের পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর ও দ্রুতগতির করে তুলবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এই স্টেশন সমুদ্র গবেষণায় বিপ্লব ঘটাবে। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় অগ্রসর হতে পারবে। একইসঙ্গে এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিহ্নিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে।”
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় নির্মিত এই স্টেশন জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে এ প্রকল্প আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।
চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এ বছরেই স্টেশনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ মেরিন ডেটা হাবে পরিণত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হলে দেশীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সময়, খরচ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং পরিবেশগত গবেষণায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।
মন্তব্য করুন