বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ১৭ থেকে ২১ মার্চ লন্ডনে এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে অংশ নেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কর্মশালায় অংশগ্রহণ।
আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ের মধ্যে অন্যতম হলো পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার। গভর্নর লন্ডনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে এ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার জন্য সমর্থন আদায় করেন।
গভর্নর যুক্তরাজ্যের সংসদ ভবনে দুর্নীতিবিরোধী অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সংসদ সদস্য, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এই আলোচনায় যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
১৯ মার্চ লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী, তদন্তকারী এবং আর্থিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সেমিনারে গভর্নর বলেন, পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধার ইতিহাসের অন্যতম জটিল কাজ। বিশ্বব্যাংকের স্টার ইনিশিয়েটিভের সহায়তায় একটি নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা তুলে ধরতে গভর্নর আল জাজিরা, ফিনান্সিয়াল টাইমস ও গার্ডিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৌশলগত যোগাযোগ সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করেন কীভাবে সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রচারণাকে আরও কার্যকর করা যায়।
সফরের সময় গেটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মশালায় গভর্নর নেতৃত্ব দেন। কর্মশালায় তাত্ক্ষণিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং, এবং মোজালুপ প্রযুক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে লন্ডন সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ করার উদ্যোগ এই সফরের অন্যতম সফলতা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন