বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ৫৪তম দেশ হিসেবে আর্টেমিস অ্যাকর্ডসে যুক্ত হয়েছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নভোচারী হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।
মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’ এর প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ। তিনি বলেন, “আর্টেমিস জেনারেশন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। তারা পৃথিবীর বাইরেও বিভিন্ন গ্রহে ভ্রমণ করবে। এই চুক্তি সেই ভবিষ্যৎ অভিযাত্রার ভিত্তি তৈরি করছে।”
চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তিগত সহযোগিতাই নয়, মহাকাশ গবেষণায় সক্রিয় ভূমিকা পালনেরও সুযোগ পাবে। বিডার চেয়ারম্যান আরও জানান, চুক্তির বাস্তবায়নে পূর্ণ সুবিধা পেতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশের জন্য এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ।
বিনিয়োগ ও উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা
ব্রিফিংয়ে চৌধুরী আশিক মাহমুদ ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, “এনডিবি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং এ বছরের মধ্যে তারা এক বিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং সাপোর্ট দেবে। তারা শুধু সরকারি খাতে নয়, বেসরকারি খাতেও ফান্ডিং করবে।”
এনডিবির ঋণের সুদহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনডিবি সব দেশকে সমানভাবে বিবেচনা করে। প্রতিবেশী ভারত যেভাবে সুদ পাচ্ছে, বাংলাদেশও একই হারে পাবে।”
উচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে নাসার অ্যাক্টিং অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যানেট পেট্রো ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, স্পারসোর চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
উপসংহার
এই চুক্তি মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
মন্তব্য করুন