ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মশকনিধন কার্যক্রমে অসংগতি ও দায়সারাভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৭ এপ্রিল) সকালে দক্ষিণ সিটির ৫২, ৫৩ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মশকনিধন কর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত কর্মীদের অনেকেই হাজিরা দিয়ে কাজে না গিয়ে সময় কাটান অন্যত্র।
৫২ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত রজ্জব আলী সরদার রোড, মুরাদপুর এবং মাদ্রাসা রোডে মশকনিধন কর্মীদের দেখা মেলেনি। মশক সুপারভাইজার আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়, সাত কর্মীর মধ্যে মাত্র তিনজন কাজ করছেন। পরে এই তিনজন হাজিরা দিয়ে চা খেতে গেছেন বলে জানান। প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে তারা মাত্র আধা ঘণ্টা ওষুধ ছিটিয়ে দিনের কাজ শেষ করেন।
৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল সোয়া ৮টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত নবীনবাগ, ঋষিপাড়া, ও কলেজ রোড এলাকায়ও মশকনিধন কর্মীদের পাওয়া যায়নি। সুপারভাইজর ফিরোজ মাহমুদের দাবি, সাতজনের মধ্যে চারজন কাজ করছেন। তবে এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র দুইজন কর্মী কাজ করছিলেন। বাকিদের অবস্থান অজানা।
বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফগিং করার কথা থাকলেও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো কর্মীকে কাজে পাওয়া যায়নি। ওয়ার্ডের সুপারভাইজর সফিউল ইসলামের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফারিয়া ফয়েজ জানান, ছয় কর্মীর মধ্যে চারজন ছুটিতে। তবে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, বাকি দুইজনকেও কাজে পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা জানান, মশকনিধন কর্মীদের গাফিলতির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “মশা এত বেশি যে রাস্তায় হাঁটলেও কামড়ায়।”
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশাত পারভীন জানান, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় কিছু কর্মী কাজে যোগ দেননি। তিনি বলেন, “সোমবার থেকে কাজ পুরোদমে শুরু হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্টদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মশকনিধন কর্মীদের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা এবং অনুপস্থিতি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করছে। দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
মন্তব্য করুন