ঢাকার ব্যস্ত সচিবালয় এলাকার সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় ব্যতিক্রমী ভূমিকার জন্য প্রশংসিত পুলিশ কনস্টেবল রিয়াদ হোসেনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)’ প্রদান করা হয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতা নয়, বুদ্ধিমত্তা ও সংযমের মাধ্যমে তিনি যে শান্তিপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করেছেন, তারই স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হলো।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই সদস্য আলোচনায় আসেন, যখন এক আন্দোলনকালে তাকে দেখা যায় লাঠিপেটা না করেই কৌশলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। এমনকি অনেকেই বলছেন, তিনি ‘লাঠিপেটার অভিনয়’ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করেন—যাতে উত্তেজনা ছড়ায় না, আবার দায়িত্বও ঠিকঠাক পালন হয়।
গত ২৭ মার্চ তার এই পদক প্রাপ্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব তৌফিক আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,
“২০২৫ সালে নাগরিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বুদ্ধিদীপ্ত পুলিশিং কৌশলের স্বীকৃতি হিসেবে রিয়াদ হোসেনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) প্রদান করা হলো।”
সাধারণত এই পদকটি পুলিশ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়, তবে রিয়াদ হোসেনের ক্ষেত্রে তা আলাদাভাবে, ব্যতিক্রমী ঘটনার বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রিয়াদের অভিনব ব্যবহারের প্রশংসা করেন বহু মানুষ। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিশিষ্টজন—সবাই তার এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকাকে দেশের পুলিশের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
এই সম্মান শুধু রিয়াদের একক অর্জন নয়, এটি ভবিষ্যতের পুলিশিংয়ের জন্যও এক উজ্জ্বল বার্তা: শক্তি নয়, মানবতা দিয়েও পরিস্থিতি সামলানো যায়।
মন্তব্য করুন