স্বাস্থ্যকণ্ঠ
৭ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আত্মীয়দের রক্ত ব্যবহার—নিরাপদ নাকি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত?

রক্তশূন্যতা বা নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে প্রায়ই রক্ত বা রক্তের উপাদান সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। এ সময় অনেকেই আত্মীয়দের কাছ থেকে রক্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। নিকটাত্মীয়দের রক্তের প্রতি ভরসা, আবেগ ও সুবিধা থাকলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে—এতে থাকতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

নিকটাত্মীয় মানেই নিরাপদ নয়

চিকিৎসা পরিভাষায় ‘নিকটাত্মীয়’ বলতে বোঝানো হয় ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভ—যেমন, মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে। এদের পাশাপাশি চাচা, মামা, খালা বা ফুফুদের কাছ থেকেও রক্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিপদ: টিএ-জিভিএইচডি

নিকটাত্মীয়ের রক্ত ব্যবহারে একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যার নাম ট্রান্সফিউশন–অ্যাসোসিয়েটেড গ্রাফট–ভার্সাস–হোস্ট ডিজিজ (TA-GVHD)। এতে দাতার রক্তে থাকা জীবিত লিম্ফোসাইট গ্রহীতার শরীরের টিস্যুকে আক্রমণ করে, কারণ দাতার ও গ্রহীতার জিনগত মিল (HLA) বেশি থাকে আত্মীয়দের মধ্যে।

এই রোগে আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটে। যদিও এটি খুব বিরল (প্রায় ০.১% থেকে ১%), কিন্তু ঝুঁকি এতটাই ভয়াবহ যে চিকিৎসকেরা নিকটাত্মীয়দের রক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করেন।

উপসর্গগুলো কীভাবে চেনা যাবে?

রক্ত দেওয়ার ৪ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জ্বর, ত্বকে লাল দানা, পাতলা পায়খানা, রক্তমিশ্রিত মল, তীব্র পেটব্যথা, বমি ও জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন, সাদা ও লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে যেতে পারে।

এই উপসর্গ দেখা দিলে এবং আত্মীয়ের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি—বিলম্ব মানেই মৃত্যু ঝুঁকি।

স্বামী বা স্ত্রীর রক্ত নেওয়া কি নিরাপদ?

যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রক্তের সম্পর্ক থাকে না, অনেকে ভাবেন তারা রক্ত দিতে পারবে। কিন্তু HLA মিল থাকলে বা গ্রহীতার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হলে সেখানেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিকল্প থাকলে জীবনসঙ্গীর রক্তও না নেওয়াই ভালো।

প্রতিরোধ সম্ভব কীভাবে?

রক্ত সঞ্চালনের আগে যদি তা গামা রেডিয়েশন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, তাহলে দাতার লিম্ফোসাইট ধ্বংস হয়ে যায় এবং TA-GVHD এর ঝুঁকি কমে আসে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখনো দেশের সব প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা নেই।

সতর্কতা হোক সচেতনতার অংশ

রক্ত যে-ই দিক না কেন, অবশ্যই তার গ্রুপ, ক্রস-ম্যাচিং, সংক্রমণ পরীক্ষাসহ দাতার শারীরিক সামর্থ্য যাচাই করা উচিত। আত্মীয়ের রক্ত মানেই নিরাপদ—এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে চিকিৎসক পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান: জনগণের অধিকার হরণে গুপ্তদের ষড়যন্ত্র চলছে

হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় ও ফয়সালের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পদত্যাগের একদিন পরই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হলেন অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, দেশের মানুষের ভালোবাসায় একাকিত্ব কাটছে: তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’: দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান

মগবাজারে শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই: সরকার

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন মনিটরের উদ্বোধন

ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক, রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

১০

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ৫

১১

বাফুফে ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিলারের সৌজন্য সফর, ক্রীড়া উন্নয়নে সহযোগিতার আশাবাদ

১২

ভারতের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ

১৩

ঐক্যের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

১৪

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পুলিশ

১৫

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল, রাতেও পুলিশি পাহারা

১৬

ভারতে কতদিন থাকবেন, সিদ্ধান্ত নিতে হবে শেখ হাসিনাকেই: জয়শঙ্কর

১৭

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১২০ চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি

১৮

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়েই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের দেশে ফেরা

১৯

৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা, বিশেষজ্ঞদের সাবধানতা

২০