ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) বিশ্ব শারীরিক সক্রিয়তা দিবস উদযাপন করা হয়েছে রোববার (৬ এপ্রিল) এক বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে। ফিজিক্যাল অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন বিভাগ আয়োজিত এ আয়োজন শুরু হয় কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে এবং শেষ হয় বহির্বিভাগের সামনে।
এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এম জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহম্মদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা চিকিৎসকদের নিজেদের শারীরিক চর্চার অভাব এবং রোগীদের ওষুধ নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন সবাই।
উল্লেখযোগ্যভাবে র্যালিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢামেকের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফন্নেসা, স্পাইন সার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম আকন, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহাবুল হুদা চৌধুরী এবং জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুসা মোহাম্মদ হুজাইফা।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের প্রতিনিধিত্ব করেন সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ও সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের বিভাগের প্রধান ডা. মো. মুহিব্বুর রহমান এবং দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. হাবিবুর রহমান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০০২ সালে দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তাদের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হবে প্রায় ২৭০০ কোটি ডলার।
WHO সুপারিশ করেছে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা অন্য যেকোনো শারীরিক কার্যক্রম।
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্যাপ্ত শারীরিকভাবে সক্রিয় নয়। যা ভবিষ্যতের জন্য এক অশনিসঙ্কেত।
মন্তব্য করুন