ভারতে সদ্য পাস হওয়া বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী আইন ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভ। পার্লামেন্টে বিলটি পাস হওয়ার পর শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও এর প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে এবার সরব হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আসিফ নজরুল বলেন, “ভারতের মোদি সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে আরেকটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে তারা ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি করেছে, যা মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কায়েমের ষড়যন্ত্র।”
তিনি আরও লেখেন, “যেখানে ভারতের মন্দির কমিটিতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের জায়গা নেই, সেখানে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের যুক্ত করার প্রস্তাব দ্বিচারিতার চূড়ান্ত উদাহরণ। এটি মুসলমানদের মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থানসহ ধর্মীয় সম্পত্তিগুলো বাজেয়াপ্ত করার একটি অজুহাত হতে পারে।”
ভারতের পার্লামেন্টে এই বিলটি পাস হয় গত ৩ এপ্রিল। লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই এটি ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনে, এতদিন অমোচনীয় হিসেবে পরিচিত ওয়াকফ সম্পত্তিকে বিক্রয় বা হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আসিফ নজরুল তার প্রতিক্রিয়ায় আরও উল্লেখ করেন, “এই আইন ভারতের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার আরেকটি প্রমাণ। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই সরকারটাই বারবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ তোলে।”
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের দানকৃত ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি, যা এতদিন কেবল মুসলিম নিয়ন্ত্রিত বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হতো। নতুন আইন অনুযায়ী, এই বোর্ডে অমুসলিম সদস্য রাখার বিধান তৈরি হয়েছে—যা মুসলিম সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের আইন ভারতের ধর্মীয় সহাবস্থান ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বাংলাদেশ থেকেও আসছে উদ্বেগ ও নিন্দা।
মন্তব্য করুন