রাজশাহী অঞ্চলে শুরু হয়েছে আমের মৌসুম। কলমজাত ছোট ও মাঝারি গাছে গুটি ধরে বাগানজুড়ে আশা জাগালেও, খরা ও মৃদু তাপপ্রবাহে সে আশায় দেখা দিয়েছে অশনিসংকেত। চলমান খরায় অনেক বাগানে গুটি শুকিয়ে ঝরে পড়তে শুরু করেছে। ফলে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর বাগানে ব্যাপকভাবে গুটি ধরেছে। মার্চের মাঝামাঝিতে কয়েকদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও ঈদের আগ থেকে চলতে থাকা খরায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর পুঠিয়ার আমচাষি মাহবুব আলম জানান, তার ১০ বিঘা জমির বাগানে বৃষ্টির পর গুটিগুলো কিছুটা সুস্থ হলেও এখন তা ঝরে পড়ছে।
চাষিরা বলছেন, চলতি বছর ‘অন ইয়ার’ হওয়ায় অধিকাংশ গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। ঘন কুয়াশার অনুপস্থিতি এবং দ্রুত শীত বিদায়ের কারণে মুকুলে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে গুটি টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সেচ ও যত্ন। রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, গুটি রক্ষায় কীটনাশক ও সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি আব্দুল হান্নান বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলন হতে পারে। কৃষি বিভাগও আশাবাদী। উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, এখনও বাগানে যেসব গুটি রয়েছে, সেগুলো ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে চাষিরা ভালো লাভ করতে পারবেন।
রাজশাহী অঞ্চলে এবার প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টর জমির আমবাগানে মুকুল ও গুটি এসেছে। যার মধ্যে তিন জেলার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী) বাগানেই রয়েছে ৮৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া ১১ লাখ মেট্রিক টন আম। আর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, এবার বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় মৌসুম। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
রাজশাহী কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, আমের উৎপাদনে স্বাভাবিকভাবেই কখনো বেশি কখনো কম ফলন হয়। এবার বেশি মুকুল আসায় ফলনের সম্ভাবনাও বেশি। তবে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাজশাহীর আমচাষিরা এখন বৃষ্টির অপেক্ষায়। আকাশ ভরসা না দিলে জমিতে পানি দিয়ে হলেও রক্ষা করতে চান গুটি আম। কারণ গাছের প্রতিটি গুটি এখন যেন সম্ভাবনার প্রতীক।
মন্তব্য করুন