পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ৯ দিনের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরছে মানুষ। কর্মজীবী যাত্রীদের ঢাকামুখী স্রোত শুরু হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রা অনেকটাই আরামদায়ক ও ঝামেলাহীন। রাজধানীর গাবতলী, মাজার রোড ও টেকনিক্যাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম এবং সড়কগুলোতে নেই আগের মতো যানজট।
বাস টার্মিনালে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হলেও যাত্রা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ মানুষ। কেউ কেউ বলছেন, ঈদের সময় সাধারণত দীর্ঘ যানজট ও অতিরিক্ত যাত্রীচাপে পড়তে হয়, কিন্তু এবার সেসব ভোগান্তি এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
স্বস্তির ফিরতি যাত্রা
ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফেরা সাকিব বলেন, “এবারের ঈদযাত্রা ছিল আগের চেয়ে অনেক আরামদায়ক। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সড়কে চাপ কমেছে। আগের মতো কোথাও দীর্ঘ যানজট হয়নি।” তিনি যোগ করেন, “আগে ঈদের সময় সড়কের সংস্কারকাজ বা ফোর লেনের কাজের কারণে ধীরগতির দুর্ভোগ হতো, এবার সেসব ছিল না।”
বগুড়া থেকে আসা মো. খোকন বলেন, “আমার যাত্রাটা ছিল একেবারে ঝামেলামুক্ত। অনলাইনে টিকিট কেটেছিলাম, ফলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়নি। এবারকার ঈদে যাওয়া-আসা—দুইটাই ভালো ছিল।”
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে পরিবারসহ ঢাকায় আসা সাব্বির হোসেন জানান, “রাতের বাসে এসেছি। আগে ঈদের সময় রাতে চলাচল নিয়ে শঙ্কা থাকত, কিন্তু এবার কোনো সমস্যা হয়নি। রাস্তা ছিল ফাঁকা, যাত্রীও খুব বেশি ছিল না।”
বাসচালকদের অভিজ্ঞতা
শ্যামলি পরিবহনের সহকারী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চাপ এবার অনেকটাই কম। আগে এক সময়ে তিনটি বাস ছাড়তাম, এবার একটি বাসই পর্যাপ্ত।”
নাবিল পরিবহনের সহকারী মো. আলী জানান, “আগে আমরা যাত্রী নিয়ে এসে আবার খালি গাড়ি পাঠাতাম। এবার যাত্রী এতটাই কম যে একটা ট্রিপের পর গাড়ি বসিয়ে রাখছি।”
হানিফ পরিবহনের একজন সহকারী জানান, “আগে মানুষ এত ভিড় করত যে ইঞ্জিন কাভারেও বসে আসত। অতিরিক্ত ট্রিপ চালাতে হতো। এখন পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক।”
চালক ও সহকারীরা মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটি থাকায় মানুষ পর্যায়ক্রমে রাজধানীতে ফিরছে, ফলে ফিরতি চাপ সড়কে একসাথে পড়ছে না। পাশাপাশি পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে রুট বিভাজন হয়ে চাপ আরও কমেছে।
সবমিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা ছিল ব্যতিক্রম—নেই ধকল, নেই অপেক্ষা। ছিল কেবল স্বস্তি আর গন্তব্যে নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর তৃপ্তি।
মন্তব্য করুন