জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উন্নয়নে ১৩৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে প্রকল্পের ব্যয় খাতে ১৬টি বিভাগের খরচ প্রস্তাব গৃহীত না হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে এটি। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় নয়টি ব্যয় খাত একেবারে বাতিল এবং বাকি ব্যয় খাতগুলো যৌক্তিকভাবে কমানোর সুপারিশ করেছে। সংশোধনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ফেরত পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।
প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে আগামী জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় খাতে সতর্কতা
আইএমইডি-র সাবেক সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, “দেশে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অহেতুক ব্যয়ের প্রবণতা বেড়েছে। অপ্রয়োজনীয় খাত ঢুকিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়। এটা সম্পদের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।”
প্রকল্পে যেসব ব্যয় খাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আপ্যায়ন খরচ, অন্যান্য ভাতা, অফিস ভাড়া, আসবাবপত্র মেরামত, কুরিয়ার বিল, ডিপিপি প্রস্তুতি এবং গ্রুপ বিমা ইত্যাদি। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়া, প্রচার-প্রচারণা ও অফিস যন্ত্রপাতির মতো কিছু খরচ যৌক্তিক পর্যায়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পের মূল কাঠামো ও উদ্দেশ্য
প্রস্তাবিত উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে—মসজিদের পূর্ব ও উত্তর পাশে ৮০ ফুট উঁচু গেট, ৩০০ ফুট উচ্চ মিনার নির্মাণ, চারতলা অফিস ভবন, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও লিফট স্থাপন, কার পার্কিং সংস্কার এবং অডিটোরিয়াম উন্নয়ন ইত্যাদি।
পরিকল্পনায় ঘাটতি ও সংশোধনের নির্দেশনা
পিইসি সভার কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের পটভূমি, ভিশন-মিশন, ও সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। জনবল নিয়োগেও যথাযথ সুপারিশ না থাকায় তা সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যানবাহন সংক্রান্ত অনুমোদন না নেওয়া, এবং সদস্য সম্মানীর অসামঞ্জস্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সভায় ভবন নির্মাণ খাতে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজন নির্ধারণ করে ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বপ্রস্তুত ক্রয় পরিকল্পনা বাতিল করে নতুনভাবে তা তৈরি করার নির্দেশও এসেছে।
সভাপতিত্ব করা পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. কাইয়ুম আরা বেগম বলেন, “প্রকল্পটির জন্য একটি সুস্পষ্ট এক্সিট প্ল্যান থাকতে হবে এবং দ্রুত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করতে হবে।”
মন্তব্য করুন