বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের চক্র থেকে যেন বের হতে পারছে না। যদিও ছুটির পরের দিন শহরের বাতাসের মান কিছুটা উন্নতি দেখিয়েছে, তবে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে ঢাকার বাতাসের মান এখনও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১৪৪। এতে ঢাকার অবস্থান বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১১তম। তুলনায়, ভারতের রাজধানী দিল্লি ৩৩০ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে, যা নাগরিকদের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’।
একই সময়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ২১৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় এবং পাকিস্তানের লাহোর ১৮৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
একিউআই স্কোর কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
আইকিউএয়ারের স্কেল অনুযায়ী:
০-৫০: ভালো
৫১-১০০: মাঝারি
১০১-১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
১৫১-২০০: সাধারণভাবে অস্বাস্থ্যকর
২০১-৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর
৩০১ বা তার বেশি: ঝুঁকিপূর্ণ
ঢাকার দূষণ সমস্যা
ঢাকার একিউআই দূষণের পাঁচটি প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়:
বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫)
নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂)
কার্বন মনোক্সাইড (সিও)
সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂)
ওজোন (ও₃)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ুদূষণ স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের কারণ। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৭০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণের কারণে মারা যান।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ঢাকার বায়ুদূষণ শহরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা বলছেন:
বাইরে বের হলে মাস্ক পরা উচিত।
শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া এড়াতে হবে।
সবুজায়ন ও শহরে গাছপালা বাড়ানোর মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকার পরিবেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নাগরিকদের সচেতনতা এবং সরকারের উদ্যোগের সমন্বয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন