যেসব কোম্পানি ব্যাংক থেকে এক হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ নেবে, তাদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত টাস্কফোর্স। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে আইপিও বিষয়ক সুপারিশ জমা দিয়ে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী,
স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে ৩০ কোটি টাকার কম মূলধনের কোম্পানি এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৫০ কোটি টাকার কম মূলধনের কোম্পানি মূল বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিওতে ৫০% শেয়ার সংরক্ষণ এবং এর মধ্যে ৫% প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
টাস্কফোর্স আইপিও আবেদন পর্যালোচনা এবং তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে সাড়ে পাঁচ মাস এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
টাস্কফোর্স আইপিও আবেদন পর্যালোচনার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে প্রাথমিক ক্ষমতা ন্যস্ত করার প্রস্তাব করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির জন্য অনুপযুক্ত মনে করলে বিএসইসি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে না। তবে কোম্পানি চাইলে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবে।
টাস্কফোর্স শেয়ারবাজারের আকার বাড়ানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য নানা নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইপিও অডিটের বাধ্যবাধকতা আরোপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ টাস্কফোর্সের সদস্যদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। পুঁজিবাজার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই প্রস্তাবনাগুলো বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন