আশুলিয়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযানে হকারদের বাধার মুখে পড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রবিবার বিকেলে বলিভদ্র বাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়।
ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কের যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা জেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ, রপ্তানি জোন, বলিভদ্র ও বাইপাইল এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিল।
অভিযানের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়, এবং তিনজনকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হলে উত্তেজিত হকাররা তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে, বিক্ষুব্ধ হকাররা পুলিশের একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঠ ১৪-৩৪৩৫) ভাঙচুর করে এবং অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে পুলিশসহ অভিযানে থাকা সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনূর কবির জানান, মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দুষ্কৃতকারীরা বাধা দেয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, হকাররা অভিযোগ করেছেন যে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং পুলিশের কাছে প্রতিদিন চাঁদা দেওয়ার পরেও তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার নেতা জানান, প্রতিদিন হকারদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়, যা মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা ছুঁইয়ে যায়।
তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয় দিবস বা উৎসবের আগে হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে হকারদের ভয় দেখানো হয়, চাঁদার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর আবার তাদের বসার অনুমতি দেওয়া হয়।
অবৈধ চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের দ্বন্দ্বের মধ্যেই চলতে থাকা এ ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন