পোস্ট গ্রাজুয়েশন রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে সংস্কারের লক্ষ্যে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল কমিউনিটি (বিএমসি)।
শনিবার (২২ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পালমোনোলজির রেসিডেন্ট ডা. মো. খোরশেদ আক্তার নাইম সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচির কথা জানান। তিনি বলেন, “আজ থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে জনমত তৈরি করা হবে। ৬ থেকে ১০ এপ্রিল প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। ১৩ এপ্রিল প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুপুর ১২টা থেকে এক ঘণ্টার প্রতীকি কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।”
১. রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের যুগোপযোগী সংস্কার:
কোর্স কারিকুলাম হালনাগাদ করা।
ই-লগবুক নিশ্চিতকরণ।
সকল রেসিডেন্টের জন্য আবাসন, থিসিস গ্র্যান্ট, এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সমতা।
২. সেগমেন্টাল পাসের নীতিমালা:
সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা।
৩. পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন:
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ।
৪. ভর্তি প্রক্রিয়ার সংস্কার:
ভর্তি পরীক্ষার ফি কমানো।
ওয়েটিং লিস্ট চালু।
ক্যারি অন সিস্টেম চালু:
ফেল করা পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের ক্যারি অন পদ্ধতি।
ডিপ্লোমা ডিগ্রির নাম পরিবর্তন:
আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নাম প্রবর্তন।
গবেষণার গুরুত্ব বৃদ্ধি:
প্রশিক্ষণকে গবেষণার সঙ্গে একীভূতকরণ।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মাহমুদুর রহমান চৌধুরী জানান, বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বেশিরভাগ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং এসব দাবির বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ডা. মাহমুদুর বলেন, “রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের নামে থাকা আবাসন সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। এসব নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় ওয়েটিং লিস্ট প্রক্রিয়া চালু করলে উপযুক্ত প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন।”
সংগঠনটি দাবি করেছে, “একটি সংস্কার কমিটি গঠন করা হোক যেখানে রেসিডেন্ট ও নন-রেসিডেন্টদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে আমরা আরও কার্যকরভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরতে পারবো।”
চিকিৎসা শিক্ষায় মানোন্নয়নে বিএমসি’র এই কর্মসূচি বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধির পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন