কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) ও হাসপাতালের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীরা আগামীকাল রোববার (২৩ মার্চ) সকল চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তারা এই কর্মসূচির কথা জানান।
বিবৃতিতে জানানো হয়, পারুল বেগম নামে এক রোগীকে গুরুতর অবস্থায় কুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা ছিল। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সত্ত্বেও তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শুক্রবার রাত ৯টায় তিনি মারা যান।
রোগীর মৃত্যুর পর স্বজন ও বহিরাগতরা চিকিৎসকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, রোগীর স্বজনরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চালান। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দাবিতে তারা সব ধরনের সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে:
ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
তারা উল্লেখ করেন, ‘আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আউটডোর, ইনডোর এবং জরুরি বিভাগসহ সব চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকবে।’
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) এক বিবৃতিতে কুমেক চিকিৎসকদের কর্মসূচিতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটি দাবি জানায়, চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
এনডিএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কোনো তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসকদের দায়ী করা এবং তাদের ওপর হামলা করা গভীর উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে শেষ করা হয় এই বক্তব্য দিয়ে: ‘চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। আমরা সবাই মিলে এই সংকট মোকাবিলা করব।’
মন্তব্য করুন