এবারের ঈদুল ফিতরে নতুন নোটের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ঈদ সালামি দিতে হবে পুরোনো ছেঁড়া-ময়লা নোটেই। এটি ঈদ আনন্দে ভাটা ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকেই। সাধারণত ১০, ২০, ও ৫০ টাকার নতুন নোট শিশুদের সালামি হিসেবে বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু এ বছর বাজারে এসব নোটের অবস্থা বেশ খারাপ।
গাজীপুরের আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক চাকরিজীবী জানান, তিনি প্রতি বছর নতুন নোট সংগ্রহ করে সন্তান ও প্রিয়জনদের সালামি দেন। তবে এ বছর উত্তরার একাধিক ব্যাংকে ঘুরেও নতুন নোট পাননি। ব্যাংকগুলোতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট থাকলেও, সেগুলো ঈদ সালামি হিসেবে উপযুক্ত নয় বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, আর্থিক খাতে কর্মরত এ হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাঁর আট বছরের ছেলে মালদ্বীপ বেড়াতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে, কারণ এতে সে ঈদের সালামিতে নতুন নোট পাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, এ বছর ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। ব্যাংকের শাখাগুলোকে পুরোনো নোট পুনঃপ্রচলনে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে টাকার নকশা পরিবর্তনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।
নতুন নোট না থাকায় মতিঝিল ও গুলিস্তানের নোটের বাজারে পুরোনো নতুন নোটের চাহিদা বেড়েছে। ১০ টাকার এক বান্ডিলের দাম এখন ১,৪৫০ থেকে ১,৫০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ১,২০০ টাকা। ২০ টাকার নোটেও একই চিত্র।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল-মে মাসে নতুন নকশার নোট বাজারে আসবে। এতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বাদ দিয়ে নতুন প্রতীক ও স্থাপনা যোগ করা হবে।
নতুন নোটের অভাব শিশুদের ঈদ আনন্দ কমাবে বলে আশঙ্কা অনেকের। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নোটের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পুরোনো নোটেই এবার ঈদ কাটাতে হবে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবারের সদস্যরা কীভাবে শিশুদের বোঝাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই।
মন্তব্য করুন