ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রমজানের সময়ও রোগীদের ইফতারের জন্য কোনো আলাদা ব্যবস্থা বা বরাদ্দ নেই। অন্য সময়ে যে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয়, রমজানেও তা-ই দেওয়া হয়। ফলে রোগীদের স্বজনরা বাইরে থেকে ইফতারি কিনে আনেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি দুর্জয়ের মা শিল্পী আক্তার জানান, তার ছেলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখানে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের নিয়মিত খাবার বরাদ্দ থাকলেও ইফতারির কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের বাইরের দোকান থেকে ইফতারি কিনে আনতে হয়।”
টাঙ্গাইল থেকে আসা রোগী আমির হামজার অভিজ্ঞতাও একই। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার দেওয়া হয়। তবে ইফতারির জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ি থেকে এখানে কেউ ইফতারি দেওয়ার মতো নেই। তাই বাইরের দোকান থেকে কিনে আনতেই হয়।”
লক্ষ্মীপুর থেকে আসা জুলহাস জানান, তার বাবা আলী হোসেন মেডিসিন বিভাগে ভর্তি। রোজা রেখে ইফতারির জন্য হাসপাতালের সামনের দোকান থেকে খাবার কিনতে হয়।
হাসপাতালের রান্নাঘরের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ইফতারের জন্য কোনো সরকারি বাজেট নেই। রোগীপ্রতি ১৭৫ টাকা বরাদ্দ থাকে, যা দিয়ে চারবার খাবার সরবরাহ করা হয়। ইফতারির জন্য বিশেষ কিছু করার সুযোগ নেই।”
রোগীদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের অনেকেই মনে করেন, রমজান মাস উপলক্ষে ইফতারির জন্য কিছু ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। জামালপুর থেকে আসা আব্দুল বারেকের বোনজামাই আতিকুল ইসলাম বলেন, “করিডোরে থাকলেও রোগীর জন্য খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু ইফতারির জন্য কিছু করা হলে ভালো হতো।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুর রহমান জানান, “রোগীদের বেশিরভাগই নিয়মিত ওষুধ ও খাবার গ্রহণের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে থাকেন। তাই ইফতারির জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।”
হাসপাতালের পরিস্থিতি তুলে ধরে রোগীদের স্বজনরা দাবি করেছেন, রমজানের সময় ইফতারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যাতে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
মন্তব্য করুন