ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করেন। তবে রমজান মাসে রোজার কারণে এই সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আসে। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস বা বৃদ্ধির ঝুঁকি দেখা দেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজানের বিশেষ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ গ্রহণের সময়সূচি বদলান:
যাঁরা সকালে নাস্তার আগে বা পরে ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাঁরা ইফতারের সময় সেটি গ্রহণ করতে পারেন। রাতের ওষুধ সেহরির সময় গ্রহণ করতে হবে। দুপুরের ওষুধের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে সমন্বয় করতে হবে।
ইনসুলিনের মাত্রায় পরিবর্তন আনুন:
ভোরে ইনসুলিনের ডোজ যদি অপরিবর্তিত থাকে, তবে বিকেলের দিকে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ভোরের ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে অর্ধেকের কাছাকাছি করার পরামর্শ দেন।
শারীরিক পরিশ্রমের সময় নির্ধারণ করুন:
রমজানে শারীরিক পরিশ্রমের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হবে। তারাবির নামাজকে শারীরিক শ্রমের অংশ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে যাঁদের ওজন কমানোর প্রয়োজন, তাঁরা তারাবির পর ২০-৪০ মিনিট হেঁটে নিতে পারেন। বিকেলে কোনোভাবেই অতিরিক্ত পরিশ্রম করা উচিত নয়।
ইফতার ও সেহরির খাদ্যতালিকা সাজান:
ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খান, যেমন শাকসবজি, টক দই, ডাল, এবং রঙিন ফলমূল। খেজুর একটি বা দুইটির বেশি খাবেন না। ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়:
রোজা রাখার সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বা কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। গুরুতর অসুস্থ হলে রোজা ভেঙে ফেলা উত্তম, কারণ ধর্মীয় বিধানে এ বিষয়ে ছাড় রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় রোজা পরবর্তীতে রাখা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজানে এই করণীয় বিষয়গুলো মেনে চললে, সঠিকভাবে রোজা পালন করা সম্ভব হবে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।
মন্তব্য করুন