বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে। সিপিডির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন। সরকারের ব্যয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে দুর্বল জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সিপিডি’র গবেষকরা বলেছেন, “সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃচ্ছ্র সাধন অব্যাহত রাখতে হবে।” এছাড়া, নগদ সহায়তার পরিবর্তে রপ্তানিকারকদের বিকল্প উপায়ে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিশেষ করে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাজেটে দূরদর্শী নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।” মুদ্রানীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলার জন্য কৃচ্ছ্র সাধন অব্যাহত রাখতে হবে।
সিপিডি আরও বলেছে:
এছাড়া, সিপিডি ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে, রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা ধাপে ধাপে বন্ধ করে নতুন সহায়তা পদ্ধতি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাজার ও কর ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
সিপিডি বাজেটে কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বিনিয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। তারা মনে করছে, “এটি দেশের অর্থনীতির জন্য উপকারী হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বেশি সুফল নিয়ে আসবে।”
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং কৃষি খাতে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবসহ সিপিডি জানিয়েছে, “এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে দেশের বিকাশ আরও গতিশীল হবে, তাই এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।”
এই প্রস্তাবনাগুলি গ্রহণ করলে, সিপিডি মনে করে, দেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে এবং জনগণের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকট কিছুটা কমবে।
মন্তব্য করুন