কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকের জীবন কাহিনী যেন রূপকথার মতো। একসময় খাদ্য গুদামের কুলি ও ইটভাটা শ্রমিক হিসেবে জীবন কাটানো মালেক আজ শত কোটি টাকার মালিক। তবে এই উত্থানের পেছনে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
নাঙ্গলকোট পৌরসভার কোদালিয়া এলাকার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া আব্দুল মালেক একসময় পরিবারের খাবারের সংস্থান করতেই হিমশিম খেতেন। কিন্তু ২০০৪ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এসে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মালেক বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
২০১৬ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন মালেক। একইভাবে ২০২১ সালেও পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি জমি দখলের একাধিক অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
নাঙ্গলকোট পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেসব প্রকল্পের বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। বাস টার্মিনাল নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কোনো চিহ্ন নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ কোটি টাকার কাজ অর্ধসমাপ্ত। সোলার বাতি প্রকল্প কিংবা বিনোদন পার্ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থেরও কোনো কার্যকর ফল দেখা যায়নি।
আব্দুল মালেক বর্তমানে নাঙ্গলকোটের প্রাণকেন্দ্রে ৫ তলা বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন, স’মিল এবং একাধিক জমি ও মার্কেটের মালিক। তার দুই ছেলের নামেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, মেয়র মালেক প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৩০%-৫০% কমিশন নিতেন। কোনো কাজের অগ্রিম কমিশন ছাড়া কাজ দেওয়া হতো না। এমনকি অনেক প্রকল্পের টাকা তোলার পর কোনো কাজই হয়নি।
পৌর কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যরাও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে মালেক কাজের নামে কমিশন ও টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এক ইউপি সদস্য নির্বাচনে জয়ী করিয়ে দেওয়ার নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলেও আব্দুল মালেক আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নাঙ্গলকোটের সাধারণ জনগণ এবং সংশ্লিষ্টরা মেয়র মালেকের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন