ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেছেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি উদাহরণ। গত শনিবার (১৫ মার্চ) বিএসএমএমইউর বহির্বিভাগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৫ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, “স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইনে মানুষের অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে বিশ্বে অনন্য স্থানে নিয়ে গেছে। টিকাদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে ভিটামিন ক্যাম্পেইন পর্যন্ত সব উদ্যোগে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। এটি আন্তর্জাতিক মানে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছয় মাস পরপর শিশুদের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হলে তারা রাতকানা ও অন্ধত্ব থেকে মুক্ত থাকে। অভিভাবকদের এই সচেতনতা ও অংশগ্রহণ আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও একইভাবে তারা সহযোগিতা করবেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. মানিক কুমার তালুকদারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে রাতকানা রোগ প্রতিরোধে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বছরে দু’বার শতকরা ৯৮ শতাংশ শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রমের ফলে দেশে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের এ ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশকে স্বাস্থ্যখাতে বিশ্বে একটি রোল মডেলে পরিণত করেছে।
মন্তব্য করুন