সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়েছে সরকার। আজ (১৩ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আগামী ৬০ দিন এই ক্ষমতা কার্যকর থাকবে।
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার পটভূমি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এর পর থেকে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার এই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা—যেমন ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২—এর আওতায় সেনা কর্মকর্তারা বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার পান। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য তারা অপরাধ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ১৯ জুলাই রাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং কারফিউ জারি করে তৎকালীন সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
পরে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
বর্তমানে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেনা কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সময়োপযোগী হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন