রোজা পালন একটি পবিত্র ধর্মীয় বিধান। তবে যাঁরা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোজা পালনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিডনির রোগীদের খাদ্যাভ্যাস, পানি পান ও ওষুধ সেবনের নিয়ম রোজার সময় ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা কিডনি বিকলের পঞ্চম ধাপে রয়েছেন, নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হয়, আকস্মিক কিডনি বিকলের শিকার, অথবা মূত্রনালির ইনফেকশনের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য রোজা রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে বা রক্তের উপাদানে জটিলতা দেখা দিলে এসব রোগীদের রোজা এড়িয়ে চলা উচিত।
যাঁরা কিডনির রোগের প্রাথমিক থেকে মাঝারি পর্যায়ে রয়েছেন এবং কোনো জটিলতা নেই, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে পারেন। তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা
যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের সাহ্রি ও ইফতারের মাঝে তিন থেকে চার লিটার পানি পান করতে হবে। লবণ ও অতিরিক্ত আমিষযুক্ত খাবার, বিশেষ করে গরু-খাসির মাংস এড়িয়ে চলা উচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনি সংযোজিত রোগীরা রোজা রাখতে পারেন। তবে তাঁদের নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
গাজীপুরের এ কে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুরাইয়া আক্তার বলেন, ‘‘রোজায় কিডনির রোগীদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাঁদের রোজা রাখা উচিত নয়।’’
কিডনি রোগীদের উচিত সাহ্রি ও ইফতারে সঠিক খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। এভাবেই তাঁরা সুস্থ থেকে রোজা পালন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন