বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১২ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
মাহমুদউল্লাহ বিদায়ী বার্তায় লেখেন, “সবকিছু নিখুঁতভাবে শেষ হয় না, তারপরও একটা সময় শেষ বলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। শান্তি… আলহামদুলিল্লাহ।”
২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৪৩০টি ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২৩৯টি ওয়ানডেতে ৫৬৮৯ রান করেছেন। টেস্টে ৫০ ম্যাচে ৫টি সেঞ্চুরিসহ ২৯১৪ রান এবং ১৪১টি টি-টোয়েন্টিতে ২৪৪৪ রান করেছেন ১১৭.৩৮ স্ট্রাইক রেটে।
নেতৃত্বে অবদান
২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দলকে ৪৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এর মধ্যে ছিল ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এছাড়া ৬টি টেস্টেও তিনি অধিনায়কত্ব করেছেন।
বিদায় মুহূর্ত
মাহমুদউল্লাহর বিদায় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। গত মাসে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ১৪ বলে ৪ রানের ইনিংসটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই অবসর নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
১০ মার্চ বিসিবি ২০২৫ সালের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মাহমুদউল্লাহ নিজেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন। এরপরই তাঁর অবসরের ঘোষণা এলো।
ধন্যবাদ বার্তা
বিদায়ী বার্তায় মাহমুদউল্লাহ জাতীয় দলের কোচ, সতীর্থ, এবং দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাবা-মা, শ্বশুর, ভাই এবং স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে নস্টালজিয়া আর আবেগের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। তাঁর অবদান এবং নেতৃত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন মনে থাকবে বলে মন্তব্য করছেন ভক্ত ও ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
২০০৭ থেকে ২০২৫—১৮ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের জায়গা পোক্ত করেছেন। তাঁর বিদায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের সমাপ্তি টানল।
মন্তব্য করুন