স্বাস্থ্যকণ্ঠ
১২ মার্চ ২০২৫, ৪:৩৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

স্বাধীনতাপন্থীদের জয়: ট্রাম্পের নজরে আসা গ্রিনল্যান্ড নতুন অধ্যায়ে

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে মধ্য–ডানপন্থী বিরোধী দলগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে। কৌশলগত অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে আসা এই অঞ্চলটি আবারো বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে।

গ্রিনল্যান্ডের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএনআর-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত ভোট গণনা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ভোটে স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি’ ২৯.৯% ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয়তাবাদী দল নালেরাক পার্টি, যারা ২৪.৫% ভোট পেয়েছে। ক্ষমতাসীন বাম–গ্রিন আইএ পার্টি ২১% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।

নালেরাক পার্টি তাদের ভোটের হার দ্বিগুণ করে চমক দেখিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির ৩৩ বছর বয়সী নেতা জেনস-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন জানিয়েছেন, “আমরা এই ফলাফলে অবাক। তবে আনন্দিত।”

স্বাধীনতার জন্য মতপার্থক্য

স্বাধীনতার পক্ষে থাকা গ্রিনল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাধীনতার সময়সীমা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টি ধীরে সুস্থে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে নালেরাক পার্টি আরও দ্রুত পদক্ষেপের কথা বলছে।

গ্রিনল্যান্ডের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মুট এগেদে নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করি।” ক্ষমতাসীনদের জোটসঙ্গী সিউমুত পার্টি ইতোমধ্যে তাদের পরাজয় স্বীকার করেছে।

ট্রাম্পের আগ্রহ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের দরকার। যেকোনো উপায়ে আমরা এটি অর্জন করব।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

ঔপনিবেশিক ইতিহাসের ছায়া

গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের ৯০% ইনুইট জনগোষ্ঠী। তারা ডেনমার্কের দ্বারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ঐতিহাসিকভাবে তাদের সংস্কৃতিকে দমন করা হয়েছে, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ ও শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো নির্যাতন চালানো হয়েছে।

ভবিষ্যতের সরকার ও স্বাধীনতার পথ

গ্রিনল্যান্ডের ৩১ আসনের পার্লামেন্টে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি। ফলে জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হবে। নতুন সরকার স্বাধীনতার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপের ভবিষ্যৎ এখন গ্রিনল্যান্ডবাসীর রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান: জনগণের অধিকার হরণে গুপ্তদের ষড়যন্ত্র চলছে

হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় ও ফয়সালের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পদত্যাগের একদিন পরই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হলেন অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, দেশের মানুষের ভালোবাসায় একাকিত্ব কাটছে: তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’: দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান

মগবাজারে শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই: সরকার

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন মনিটরের উদ্বোধন

ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক, রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

১০

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ৫

১১

বাফুফে ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিলারের সৌজন্য সফর, ক্রীড়া উন্নয়নে সহযোগিতার আশাবাদ

১২

ভারতের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ

১৩

ঐক্যের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

১৪

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পুলিশ

১৫

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল, রাতেও পুলিশি পাহারা

১৬

ভারতে কতদিন থাকবেন, সিদ্ধান্ত নিতে হবে শেখ হাসিনাকেই: জয়শঙ্কর

১৭

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১২০ চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি

১৮

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়েই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের দেশে ফেরা

১৯

৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা, বিশেষজ্ঞদের সাবধানতা

২০