চোখের নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত গ্লকোমা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিশ্ব গ্লকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএসএমএমইউর সি-ব্লকের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে এই সপ্তাহের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এবারের স্লোগান, “এক সাথে হাত ধরি, গ্লকোমা মুক্ত বিশ্ব গড়ি।”
গ্লকোমা প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা
র্যালিপূর্ব সমাবেশে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “গ্লকোমা একটি নীরব রোগ, যা প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা সম্ভব হলে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। বিএসএমএমইউতে সর্বাধুনিক গ্লকোমা ক্লিনিক রয়েছে, যেখানে উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের এ প্রতিষ্ঠানকে গ্লকোমা চিকিৎসায় একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
গ্লকোমার ঝুঁকি ও চিকিৎসা পদ্ধতি
চিকিৎসকরা জানান, গ্লকোমা হলো এমন একটি চোখের রোগ যেখানে চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। এটি পৃথিবীর অনিবারণযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি।
গ্লকোমার চিকিৎসায় বিএসএমএমইউতে রয়েছে আধুনিক সুবিধাসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে ভিজুয়্যাল ফিল্ড অ্যানালাইসিস, ওসিটি, গ্লকোমা লেজার, ট্রাবেকুলেকটমি অপারেশন, গ্লকোমা টিউব ইমপ্ল্যান্ট, এবং বাচ্চাদের গ্লকোমা চিকিৎসার বিশেষায়িত ব্যবস্থা।
প্রতিরোধে পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলেন, গ্লকোমার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চোখের চাপ পরীক্ষা, দৃষ্টি সীমানার বিশ্লেষণ এবং নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এই রোগ নির্ণয়ে সহায়ক। জীবনধারা পরিবর্তন, যেমন সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্লকোমার ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীনসহ চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।
বিশ্ব গ্লকোমা সপ্তাহের এই আয়োজনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গবেষণা ও চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বিএসএমএমইউর ভূমিকা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন