চিকিৎসক এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত “সর্বস্তরের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীরা” ব্যানারের অধীনে বুধবার (১২ মার্চ) সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করা হবে। বহির্বিভাগ ও অন্তবিভাগের সেবা এবং বৈকালিক চেম্বার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে আইসিইউ, সিসিইউ, লেবার রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু থাকবে।
মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক নাদিম হোসাইন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, “বুধবার দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করবেন এবং চিকিৎসকরা মানবিক বিবেচনায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখবেন।”
তিনি আরও জানান, একই দিনে সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মহাসমাবেশ করবেন এবং সেখান থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবেন।
চিকিৎসকদের দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
চিকিৎসক এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ১৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. এমবিবিএস/বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবে না।
২. রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবে না।
৩. মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্সের কারিকুলাম সংস্কার এবং মানহীন ম্যাটস বন্ধ করা।
৪. চিকিৎসকদের শূন্য পদ পূরণ এবং বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা।
৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা।
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদেরও পৃথক দাবি রয়েছে। তারা সরকারি/বেসরকারি পর্যায়ে নতুন পদ সৃষ্টিসহ ভাতাসহ এক বছরের ইন্টার্নশিপ এবং “মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ” গঠনের দাবি জানাচ্ছেন।
ধর্মঘটের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চিকিৎসকদের এই কর্মসূচি সাম্প্রতিক মাসগুলোর আন্দোলনেরই একটি অংশ, যেখানে ইন্টার্ন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছেন। তাদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে সবার নজর রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের রোগীরা এ ধর্মঘটে কিছুটা বিপাকে পড়তে পারেন। তবে মানবিক বিবেচনায় জরুরি চিকিৎসা সেবা সচল থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মন্তব্য করুন