মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক ঠিকাদারের সঙ্গে ঘুষ নিয়ে কথা কাটাকাটির ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদার এম এ মান্নান প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন করছেন, “১ শতাংশ কীভাবে নেবেন?” উত্তরে শহিদুল বলেন, “তর্ক করেন না তো।” মান্নানের অভিযোগ, প্রতিদিনের সাইট পরিদর্শনসহ প্রকল্পের জন্য ১ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেন শহিদুল।
গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শালদহ বাজার থেকে কৃষিমাঠ পর্যন্ত ৬৯৩ মিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নিয়ে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রকল্পের কাজ এগোতে গিয়ে ঘুষের দাবিতে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার মান্নান।
ঠিকাদারের অভিযোগ
ঠিকাদার এম এ মান্নান জানান, শহিদুল নিয়মিতভাবে ঘুষ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। প্রতিদিন ৩-৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং তা না দিলে কাজের অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। তিনি আরও জানান, বাধ্য হয়ে অনেক সময় টাকা দিতে হয়, না হলে বিল উত্তোলন বা কাজের অনুমোদন আটকে দেওয়া হয়।
প্রকৌশলীর বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঠিকাদার মান্নান বিল উত্তোলনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, তবে কাজ শেষ না হওয়ায় তাকে বিল প্রদানের বিষয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়। আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেহেরপুর এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ মিয়া বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কাজ করলে কঠোর শাস্তি হবে।”
ঘুষের অভিযোগ ও ভিডিও নিয়ে বিতর্ক
স্থানীয় জনগণের দাবি, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ভিডিও প্রকাশের পর পুরো বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ঘুষ এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন