দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা তাদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ে প্রতীকী সনদ পোড়ানো এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার সকাল ১০টায় গণস্বাক্ষর এবং বেলা সাড়ে ১১টায় সনদ পোড়ানোর মাধ্যমে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা বলেন, “ম্যাটসের সনদ নিয়ে যদি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়, তবে এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এমন একটি দেশে, যেখানে রিটের মাধ্যমে ডাক্তার হওয়া সম্ভব, সেখানে সার্টিফিকেটের আর কোনো গুরুত্ব নেই। এজন্যই আমরা এই প্রতিবাদ করছি।”
চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবি নিম্নরূপ:
ডাক্তার পদবি সংরক্ষণ: এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। আদালতে চলমান জনস্বাস্থ্যবিরোধী রিট ১২ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ‘ডিপ্লোমা চিকিৎসক’ নামে বিভ্রান্তিকর পদবির প্রচলন বন্ধ করতে হবে।
স্বাধীন প্রাইভেট প্র্যাকটিস: নিবন্ধিত চিকিৎসক (এমবিবিএস/বিডিএস) ছাড়া অন্য কেউ স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবে না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চয়তা: জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শূন্যপদে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের সুরক্ষা: চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। এ আন্দোলন দেশের চিকিৎসা পেশার মান রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন